প্রায় চারশত বছরের প্রাচীন হরিণমারী শিব মন্দির
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : অযত্নে পড়ে আছে প্রাচীন হরিণমারী শিব মন্দির
কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার পথে হরিণমারী শিব মন্দির। ছবি : ঠাকুরগাঁও জেলা
বাংলাদেশের উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও। এই জেলার পরতে পরতে গাঁথা আছে হাজার বছরের ইতিহাস। লোকমুখে শোনা যায়, রাজা গোবিন্দ নারায়ণ ঠাকুর ঠাকুরগাঁও এর একটি গ্রামে বসতি গড়েছিলেন। তিনি বিভিন্ন মন্দির নির্মাণ করেছিলেন ধর্ম চর্চার জন্য। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে বসতি গড়া রাজা, জমিদাররা বিভিন্ন জায়গায় গড়ে তুলেছিলেন সনাতন ধর্মের উপাসনালয় মন্দির। এসব মন্দিরগুলো এখনও নিজের শেকড় আঁকড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে সদর্পে। এরকম একটি উল্লেখযোগ্য প্রাচীন মন্দির হরিণমারী শিব মন্দির। ঠাকুরগাঁও মূল শহর থেকে বেশ ভেতরে মন্দিরটি অবস্থিত।
ঠাকুরগাঁও এর একটি উপজেলা বালিয়াডাঙ্গী। বালিয়াডাঙ্গী থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে গেলে হরিণমারী হাট। এই হরিণমারী হাটের উপরে শিব মন্দিরটি অবস্থিত। অতীতে মন্দিরটি অনেক উঁচু ছিল। কিন্তু বসে যাওয়ার কারণে উচ্চতা আগের চেয়ে কম। বর্তমানে এটি প্রায় ৩০ ফুট উঁচু। মন্দিরের আয়তন ১৪*১৪ ফুট। মন্দিরটি দেখতে চারকোণার। মন্দিরের দেয়াল সাদা রঙের। দেয়ালের বেশ জায়গায় পলেস্তারা উঠে গেছে। মন্দিরটি বাঁকানো ছাদবিশিষ্ট। চারটি তিন কোণা আকৃতির খণ্ড মিলে ছাদটি বানানো। চারচালা পদ্ধতি অনুসরণ করে এটি তৈরী। মন্দিরের ছাদের এক অংশ ভেঙ্গে গেছে। মন্দিরের দক্ষিণে চারকোণার দরজা দেখতে পাওয়া যায়। দরজার উপরের অংশে গোলাকার ও চারকোণাকার গঠন দেখতে পাওয়া যায়। মন্দিরের দরজায় আগে টেরাকোটার বিভিন্ন নকশা ছিল। কিন্তু লতাপাতা, মূর্তির কোন নকশাই এখন আর নেই। এছাড়া, দরজার একপাশের বেশ খানিকটা অংশ ভেঙ্গে গিয়েছে।
ছবি : বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা
মন্দিরটি ইটের তৈরি উঁচু ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। দক্ষিণ দরজার সামনে ইটের বানানো ছোট সিঁড়ি রয়েছে। ধারণা করা হয়, মন্দিরটি ৪০০ বছরের পুরনো। মন্দিরের পাশে একটি বড় পুকুর আছে। এখানে এখন আর পূজা হয় না। পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই প্রাচীন মন্দিরটি এখন হুমকির মুখে। মন্দিরের সংস্কার এখন সময়ের দাবি। পুরনো এই মন্দির এখনও বাংলাদেশের মন্দির স্থাপত্যের চিহ্ন বহন করছে সগৌরবে। সময় করে ঘুরে আসতে পারেন হরিণমারীর এই চারচালা শিব মন্দির থেকে।
কীভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও এর দূরত্ব প্রায় ৪৫৯ কিলোমিটার। হানিফ এন্টারপ্রাইজ, নাবিল পরিবহন, বাবলু এন্টারপ্রাইজ, কেয়া পরিবহনের বাস সরাসরি ঢাকা- ঠাকুরগাঁও সড়কপথে যাতায়াত করছে। ট্রেনে আসতে চাইলে, ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠতে হবে। পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস এবং একতা এক্সপ্রেস ঢাকা-ঠাকুরগাঁও রেলপথে যাতায়াত করে। ঠাকুরগাঁও এ সরাসরি আকাশ পথে আসা যায় না। আকাশপথে ঢাকা-সৈয়দপুর আসা যায়। পরবর্তীতে সৈয়দপুর থেকে ঠাকুরগাঁও আসতে বাস নিতে হবে। ঠাকুরগাঁও পৌঁছে একটি বাসে করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় যেতে হবে। বালিয়াডাঙ্গী যেতে মাত্র ২৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হবে। এরপর বালিয়াডাঙ্গী থেকে ভ্যান, বাস কিংবা মিশুকে করে মন্দিরে যাওয়া যায়।
আবাসন : ঠাকুরগাঁও এ বেশ কিছু বেসরকারী আবাসিক হোটেল রয়েছে। নর্থ সার্কুলার রোডে তিনটি হোটেল রয়েছে। এগুলো হল : হোটেল সালাম ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল প্রাইম ইন্টারন্যাশনাল এবং হোটেল শাহ জালাল। এছাড়া, বেশ কয়েকটি সরকারী আবাসন রয়েছে। যেমন : ঠাকুরগাঁও সার্কিট হাউজ ইত্যাদি। এসব আবাসনে অনুমতি নিয়ে থাকা যাবে।
খাবার-দাবার : হরিণমারীতে ভালো খাবারের হোটেলের ব্যবস্থা নেই। তবে বালিয়াডাঙ্গীতে মোটামুটি ধরনের খাবারের হোটেল আছে। এছাড়া ঠাকুরগাঁও মূল শহরে বিভিন্ন ভালো মানের খাবার হোটেল রয়েছে।
তথ্যসূত্র : http://www.thakurgaon.gov.bd/site/tourist_spot/1faae2cc-18ff-11e7-9461-286ed488c766/%E0%A6%B9%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A3%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%20%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%AC%20%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%B0 http://baliadangi.thakurgaon.gov.bd/site/tourist_spot/1fae8a98-18ff-11e7-9461-286ed488c766/%E0%A6%B9%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A3%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%20%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%AC%20%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%B0%20: